শিশির মাহমুদ
চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশে ভোটের মাঠে নতুন শক্তি সুন্নিজোট। মোমবাতি প্রতীকে লড়াই করে চট্টগ্রামের তিনটিসহ মোট চারটি আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াই করেছেন তারা। চট্টগ্রামে জামায়াতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে আসে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রটের মোমবাতির প্রতীকের তিন প্রার্থী। এছাড়া মোমবাতি প্রতীকে আরো তিনটি আসনে ভোটের হিসেবে তারা তৃতীয় অবস্থানে থেকে বিপুল ভোট পেয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের বাইরে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ৭৮ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহেরী বিজয়ী হয়েছে বলে প্রচার শুরু হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে ফলাফলে বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। একটি আসনে সুন্নিজোটের অপর শরিক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী প্রথমবার ভোটারদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উম আব্দুস সামাদ বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এখন সুন্নিজোট ভোটের মাঠে নতুন শক্তি। আমরা চট্টগ্রামে সাতটি আসনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছি। হবিগঞ্জে প্রথমে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে জানতে পারলে পরে প্রশাসন মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে কৌশলে হারিয়ে দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য দলের মতো আমাদের কোটি কোটি টাকা নেই। টাকা দিয়ে আমরা ভোট কিনতে পারি না। আমরা যা ভোট পেয়েছি তা শতভাগ নির্ভেজাল ভোট। আমরা ইসলামী শক্তি হিসেবে ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছি। সুন্নিয়তকে বিজয়ী করতে যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন সকল ভোটারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
ভোটের হিসাবে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম ধানের শীষে ১,২৫,৪৬০ ভোটে বিজয়ী হলেও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সুন্নিজোটের মোমবাতি প্রতীকের এসএম শাহাজান। তিনি ৫১,০৬২ ভোট পেয়েছেন। এখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লায় ৩৪,০৩৫ ভোট পেয়েছেন।
একইভাবে চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে বিজয়ী বিএনপির গিয়াসউদ্দীন কাদের চৌধুরী ১,১১,২০১ ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী মোমবাতি প্রতীকে ২৬,৬৯৬ ভোট। তৃতীয় জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১,০১৩ ভোট। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে বিএনপির এনামুল হক এনাম ১,৩৪,০৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু মোমবাতি প্রতীকে ২৮,৮০৬ ভোট পেয়েছেন। তৃতীয় জামায়াতের ডা. ফরিদুল আলম ২০,৯৪০ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও বোয়ালখালী আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ ৭৯,২০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মো. হাসান মোমবাতি প্রতীকে ১৯,৫৮৫ ভোট পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১,০১,৪৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে ইসলামী ফ্রন্টের অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান মোমবাতি প্রতীকে ৩০,২৩৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ১,১৬,৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও ইসলামী ফ্রন্টের রফিকুল ইসলাম চেয়ার প্রতীকে ১২,২২৫ ভোট পেয়েছেন।
সুন্নিজোটের আনোয়ারা আসনে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এসএম শাহাজান বলেন, ভোটের একদিন আগে থেকেই আমাদের নেতাকর্মীদের উপর এলাকায় এলাকায় হুমকি-ধমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ভোটের দিন বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আমার ১১ জন কর্মী আহত হয়। সুন্নিজোট এবারের নির্বাচনে নতুন শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে বৃহত্তর সুন্নি জোট গঠিত হয়। তারা চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে মহাসমাবেশ করে শক্তি প্রদর্শন করলেও এলাকায় এলাকায় তাদের জোরদার প্রচারণার ঘাটতি ছিল। জেটের অন্তর্ভুক্ত দল তিনটি- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রতীক মোমবাতি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রতীক চেয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি প্রতীক একতারা। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা, ছাত্রসেনার নেতা কর্মীদেরকে জোটভুক্ত প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
Leave a Reply